আজ রবিবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি
আজ রবিবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

নিরাপত্তা বলয়ে থাকবে ইজতেমা ময়দান

রাজধানীর সন্নিকটে টঙ্গী তুরাগ নদের তীরবর্তী ১৬০ একর জমি বিস্তৃত ময়দানে প্রথম ধাপের ইজতেমা আগামী শুক্রবার শুরু হবে। ফজরের নামাজের পর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বিশ্ব তাবলীগ জামাতের বার্ষিক মহা সম্মেলনের ৫৭তম বিশ্ব ইজতেমা। নিরাপত্তা বলয়ে থাকবে ইজতেমা ময়দান। ইজতেমা উপলক্ষে বিভিন্ন জেলার মুসল্লিরা বাস, ট্রেন ও নৌপথে দলে দলে ময়দানে প্রবেশ শুরু করেছেন। জায়গা না পাওয়ার আশঙ্কায় আগেই ময়দানে প্রবেশ করে জেলাওয়ারী খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছেন মুসল্লিরা। এছাড়া পাকিস্তান, ভারতের দিল্লি, আরব দেশের বিদেশি সাথীরাও ইতোমধ্যে ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। অন্যান্য মুসল্লিরা ময়দানমুখী রয়েছেন। তাবলীগের সাথীরা ময়দানে উপস্থিত হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর আগেই মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে আজ থেকেই বয়ান শুরু করবেন।

পাকিস্তানের সাথী মো: এনাম উল্লাহ, তারেক মাহমুদ বলেন, এই ময়দানে লাখ লাখ দেশ বিদেশি মুসল্লি সমবেত হয়। আমরা এই প্রথম বাংলাদেশ ইজতেমায় এসেছি। খুব ভালো লাগছে পরিবেশ। দ্বিনের মেহনতে সবাই এখানে আসেন। একাটাই উদ্দেশ্য আল্লাহকে রাজি খুশি করা। ইজতেমা শেষে আমরা দ্বিনের দাওয়াতে বেড়িয়ে পড়বো। কাল শুক্রবার শুরু হয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি রবিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম পর্ব। এরপর ৪ দিন বিরতি দিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব।
এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি রবিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে উভয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা। আগত মুসল্লিরা জেলাওয়ারী খিত্তায় অবস্থান নিবেন। প্রতিবছরের মতো এবারও উর্দু ভাষায় বয়ান করবেন। এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসল্লিদের সুবিধার্থে বয়ানের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা ও আরবি ভাষায় তর্জমা করা হবে। ময়দানের উত্তর পশ্চিমে তৈরি হয়েছে বয়ান (মেম্বর) মঞ্চ। এবং পশ্চিমপ্রান্তে কামাড়পাড়া ব্রিজ সংলগ্ন বিদেশি মেহমানদের থাকার ঘর। আগত মুসল্লিদের নদী পারাপারের জন্য সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচটি ভাসমান (পল্টুন) সেতু। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক আরো একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

পুলিশের ব্রিফিংএ বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৫৭তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপ। ইজতেমায় যোগ দিতে ইতোমধ্যে ময়দানে আসতে শুরু করেছেন মুসল্লিরা। আগত দেশ বিদেশি মুসল্লিদের সেবায় পুরো ময়দান নিরাপত্তা বলয়ে থাকবে। র‌্যাব পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে ময়দান ও আশপাশ এলাকা নিরাপত্তা পযর্বেক্ষনে ওয়াচ করা হচ্ছে। ইজতেমা ময়দানে কোন সমস্যা হলে জরুরি প্রয়োজনে নিকটস্থ পুলিশ কন্টোলকে জানান, কোন কিছু রা পেলে জরুরি সেবা ৯৯৯ কল করার অনেুরাধে জানান।

এছাড়া তিনি আরো বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় কোনো জঙ্গি বা নাশকতা হামলার গোয়েন্দা তথ্য নেই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। বিশ্ব ইজতেমাকে ঘিরে যেন কোনো নাশকতা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে। আমরা যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ব ইজতেমা ময়দান পরিদর্শন শেষে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামের মাঠে বিশ্ব ইজতেমার পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সামনের প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব আলম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ, টঙ্গী জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহিম খান, ট্রাফিকের ডিসি মো: আলমগীর হোসেন, এডিসি, এসি, গাছা থানার ওসি শাহ-আলম, টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো: শাখওয়াত হোসেন প্রমুখ।

সংবাদটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন