আজ রবিবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি
আজ রবিবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

শরীয়তপুরে ফকিরের রুটি পড়া খেয়ে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু অপরজন মুমূর্ষ অবস্থায় হাসপাতলে।

শরীয়তপুর জাজিরা উপজেলায় চোর ধরার জন্য তথাকথিত ফকিরের দেয়া রুটি পড়া খেয়ে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু ঘটেছে, অপর ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হয়ে মুমূর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গতকাল রবিবার (২২ মে) আনুমানিক সকাল ৮ টার সময় জাজিরা উপজেলার পশ্চিম নাওডোবা ইউনিয়নের কালু ব্যাপারী কান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৮ মে) দিবাগত রাতে পশ্চিম নাওডোবা ইউনিয়নের কালু ব্যাপারী কান্দি এলাকার শওকত ব্যাপারী (৫৫) ও মান্নান হাওলাদার (৬০) এর আনুমানিক প্রায় ৯ লক্ষ টাকা মূল্যের তিনটি গরু চুরি হয়। গরুর মালিকরা চোর ধরতে মাদারীপুর জেলার টেকের হাটের দিগনগর-নিশ্চিন্তাপুর এলাকার মৃত রাজ্জাক ফকিরের ছেলে, ইসরাফিল ফকিরের শরণাপন্ন হন। ইসরাফিল ফকির ২০ হাজার টাকার বিনিময় একটি ডিম ও দুই ধরনের আটা পড়ে দেন। এক ধরণের আটা দিয়ে রুটি বানিয়ে এলাকার লোককে খাওয়াতে বলা হয় এবং অপর আরেক ধরণের আটার রুটি খেতে বলা হয় গরু চুরি যাওয়া মালিকদের। রবিবার (২২ মে) সকাল আটটার সময় সকলের সাথে সে রুটি খায়, শওকত ব্যাপারী ও মান্নান হাওলাদার। রুটি খাওয়ার ২০ মিনিটের মাথায় শওকত ব্যাপারী (৫৫) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে, পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল নিয়ে গেলে, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর ব্যক্তি মান্নান হাওলাদার (৬০) রুটি খাওয়ার পরে ব্যক্তিগত কাজে শরীয়তপুর যাওয়ার পথে প্রেমতলা নামক স্থানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হলেও অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে সে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালের মুমূর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানান পরিবারের লোকজন। ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন আরও জানান, আমরা থানায় এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের করিনি। তবে পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট প্রাপ্তির পর আইনানুগ ব্যবস্থায় যাব।
এলাকাবাসীর ধারণা, দুই ধরণের রুটির মধ্যে যে রুটি সকল জনগণকে খাওয়ানোর কথা ছিল,  ভুলবশত হয়তোবা সে রুটি মালিকপক্ষ খেয়ে ফেলেছে। ধারণা করা হচ্ছে রুটির মধ্যে বিষাক্ত কিছু মেশানো ছিল। উলটপালট হওয়ার কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
বিষয়টি জানার জন্য ফকির ইসরাফিল এর মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও, নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ডাঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, তথাকথিত ফকিরি চিকিৎসা এটি একটি অপচিকিৎসা। এ ধরনের চিকিৎসার কোনো ভিত্তি নেই। এ ধরনের অপচিকিৎসা থেকে সকলকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করছি।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান সোহেল বলেন, তথাকথিত ফকিরের রুটি পড়া খেয়ে একজনের মৃত্যুর ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এটির বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি নেই। এটি সম্পূর্ণ একটি প্রতারণা। তবে রুটি পড়া খেয়ে মৃত্যু বিষয়টি আমার জানা নেই। ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তা চাইলে যথাযথ আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।
জাজিরা থানার উপ-পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। তারা পোস্টমর্টেম ছাড়াই লাশ দাফন করতে চেয়েছিল। আমরা লাশ পোস্টমর্টেমের ব্যবস্থা করেছি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে, যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন