আজ রবিবার, ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি
আজ রবিবার, ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

আওয়ামীলীগে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। এতে ১০জন আহত হয়

শরীয়তপুরের সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশসহ ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি ঘর বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুট হওয়া অভিযোগ উঠে। মঙ্গলবার (৩১ মে) বেলা ১১ উপজেলার বিনোদপুরে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার এমদাত মাদবরের উপর অতর্কিত হামলা চালায় ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার কোব্বাস আলী মাদবরের সমর্থকরা। এতে আহত অবস্থায় এমদাত বেপারী কে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর যের ধরে আজ এমদাত মাদবর সমর্থকরা কোব্বাস আলী মাদবরের সমর্থন সরোয়ার খার উপরে হামলা করে। এতে সরোয়ার খা ও তার ছেলে রবিন কে কুপিয়ে ঝখম করে। এছাড়া সরোয়ার খার বাড়িসহ বেশ কয়েকটি বাড়ি ঘর ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের হামলা চালায়। এই হামলায় ৭ জন আহত হয়। হামলার খবরের পর পর ই ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার কোব্বাস আলী মাদবরের নেতৃত্বে এমদাত মাদবরের সমর্থকদের বাড়ি ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হামলা চালায়া। হামলায় তিন জন আহত হয়। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আহত তিন জনকে ঢাকা পাঠানো হয়। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
জানা যায়, কোব্বাস আলী বেপারী স্থানীয় সাংসদ ইকবার হোসেন অপু সমর্থক ও এমদাত বেপারী বিনোদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদারের সমর্থক।
আহতরা হলেন, বিনোদপুর ইউনিয়নের ঢালী পাড়া গ্রামের আব্দলু জলিল বেপারী (৪২), মকফর বেপারী (৪৫), মোস্তাক বেপারী (৩৯), একই ইউনিয়নের খয়াতলা গ্রামের সরোয়ার খা (৫০), রবিন খা (২৫) স্বপন মাদবর (৪০) সহ বেশ কয়েকজন।
পালং থানা অফিসার্স ইনচার্জ আক্তার হোসেন বলেন, সকালে বিনোদপুরের মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মারামারি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় ইটের আঘাতে কিছুটা আহত হয় এক পুলিশ সদস্য। এ ব্যপারে এখনও কোন অভিযোগ হয় নি। আমরা অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
খয়াতলা বাজার ব্যবসায়ী সাঈদ ফরাজী বলেন, আমাদের কি নিরাপত্তা আছে। বাজারে ব্যবসা করবো তা দিনদুপুরে চোখের সামনে লুট হয়ে যায়। কিছু করার নাই। এখন আমরা বাজার ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি। এমন যদি হয় তাহলে ব্যবসা ছেড়ে দোকান বন্ধ করে চলে যেতে হবে। আমরা সাধারণ ব্যাবসায়ীরা চাই বাজারের নিরাপত্তা। আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপরে হামলা যেন না হয়।
সরোয়ার খার স্ত্রী রোমানা আক্তার বলেন, গতকাল থেকে ই শুনেছি কয়েকজন আমাদের বাড়িতে হামলা করবে। কারণ জানি না। আজ সকালে হঠাৎ দুই থেকে তিন শত লোক আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের ভিতরে বোমা মারে। এতে করে আমাদের ঘর ছেড়ে চলে যেত হয়। তারা ঘরে ঢুকে আলমারি ভেঙে পাচ লক্ষ টাকা ও পাচ ভরি স্বর্ণ নিয়ে যায়।
৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার কোব্বাস আলী মাদবর বলেন, চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদারের লোকজন আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘর বাড়ি লুট করে সব কিছু নিয়ে যায়। এছাড়া ১০ থেকে ১২ জনকে কুপিয়ে ঝখম করে। আশঙ্কাজন অবস্থা দুই জনকে ঢাকা পাঠানো হয়।
চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সাকিদারের সমর্থক সফিজ উদ্দিন বেপারী বলেন, আমরা এই এলাকায় কোন মারামারি চাই না। গত কয়েক বছর ধরে শান্তি এই এলাকা। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যায় এলাকার মুরব্বী এমদাত মাদবরের উপর হামলা চালািয়ে এলাকার পরিস্থিতি অশান্তি করে কোব্বাস আলী মাদবরের সমর্থকরা। সকালে তারা আবার আমাদের সমর্থিত আব্দলু জলিল বেপারীর বাড়িতে হামলা চালায় এতে তারা তিন ভাই গুরুতর আহত হয়। আমরা তাদের প্রতিরোধ করি।
পালং থানা অফিসার্স ইনচার্জ আক্তার হোসেন বলেন, সকালে বিনোদপুরের মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মারামারি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় ইটের আঘাতে কিছুটা আহত হয় এক পুলিশ সদস্য। এ ব্যপারে এখনও কোন অভিযোগ হয় নি। আমরা অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সংবাদটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন