আজ রবিবার, ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি
আজ রবিবার, ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে দিশেহারা পোড়ার চরের মানুষ

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম ‘পোড়ার চর’। নদীবেষ্টিত এই চরে ৮০টি পরিবারের বসবাস। প্রত্যকেই ভূমিহীন। বাপ-দাদার ভিটেমাটি আছে বলে পরিচয় দেওয়ার কিছু নেই।

নদীভাঙনে বাস্তুহারা হয়ে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ঠাঁই হয়েছে এই চরে। তবে তাদের দুর্ভোগ আর কষ্ট যেন পিছু ছাড়ছে না। বন্যার ধকল না কাটতেই শুরু হয়েছে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন। গত দুদিনে ভিটেমাটি হারিয়েছে ১০টি পরিবার। ভাঙনের শঙ্কায় আছে বাকি পরিবারগুলো।

পোড়ার চরের বাসিন্দা রুপজান বেগম  বলেন, ‘ঘরবাড়ি ভাঙতে ভাঙতে সব শেষ হয়ে গেছে। জমিজমা কিছু নাই। কোনোরকম ঠাঁই হইছে খাসজমিতে। সেই চর ভাঙতেছে। এখন কোথায় যাবো?’

স্থানীয় রাসেল মিয়া বলেন, ‘বর্তমান কাজ-কাম নাই, বেকার আছি। একদিকে বন্যা, অন্যদিকে ভাঙন। আমাদের দুঃখের শেষ নেই। একবারতো বন্যা হয়ে গেলো। আবার দেখছি বন্যা আসছে। আমরা যে কোথায় যাবো তার কোনো ঠিকানা নাই।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন  বলেন, ‘তিস্তা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্রসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বরাদ্দ না থাকায় এই আপদকালীন সময়ে সব জায়গায় মুভ করতে পারছি না। তবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে জিও ব্যাগ ফেলে নদীর ভাঙন রক্ষার চেষ্টা করছি।’

যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, দুদিন ধরে ব্রহ্মপুত্রের পানি বেড়ে কিছু ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। কয়েকটি গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। দুই দিনে প্রায় ৫০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে।

পরিবারগুলোকে নদীভাঙন থেকে রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বাসনের দাবি জানান এই ইউপি চেয়ারম্যান।

সংবাদটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন