আজ রবিবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি
আজ রবিবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

মেলা ও বিচ কার্নিভালে অন্যরকম কক্সবাজার দেখছেন পর্যটকরা

‘পর্যটনে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ’ প্রতিপাদ্যে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে চলছে বিশ্ব পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভাল। যেখানে লাখো পর্যটক ভিড় করছেন।

পযর্টন মেলা ও বিচ কার্নিভালের তৃতীয় দিন আজ শুক্রবার সকালে নৌর‌্যালি, বিকাল ৩টায় ঘুড়ি উৎসব, বিকাল সাড়ে ৪টায় সেমিনার, সাড়ে ৫টায় ম্যাজিক শো অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ফায়ার স্পিন, সন্ধ্যা ৭টায় লাইফ গার্ড রেসকিউ প্রদর্শনী, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাত ৯টায় ফানুস উৎসব, রাত ১১টায় ডিজে শো অনুষ্ঠিত হবে।
সাতদিনব্যাপী এ আয়োজনে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে সৈকতের লাবণী পয়েন্ট। রঙিন ছাতা, বালু ভাস্কর্য, বালুচরে প্রজাপতি কিংবা সার্ফিংবোটের ফটো কার্ডে মুগ্ধ পর্যটকরা। সৈকতপাড়ে রঙিন ছাতার স্পট; ছাতা একটু উপরে হলেও নিচে লেগেছে মানুষের ভিড়। সবাই ব্যস্ত ছাতার নিচে সেলফি তুলতে।

এ আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ।

সৈকতের বালুচরে শোভা পাচ্ছে বালু ভাস্কর্য। রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাস্কর্য। এখানেও মানুষের ভিড়। কেউ বালু ভাস্কর্য দেখছেন আবার কেউ কেউ ছবি তুলছেন। আর একটু সামনে গেলেই সৈকতের সামনে স্থাপন করা হয়েছে নানা রঙের ফটোকার্ড। রয়েছে প্রজাপতি, সার্ফিং বোট, ডলফিন ও দোলনা। সেখানেও সকল বয়সী মানুষের ভিড় ছবি তুলতে। আগতরা বলছেন, অন্যরকম কক্সবাজার দেখছেন তারা।

ব্র্যান্ডিং কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক আহমদ জয় বলেন, ‘কক্সবাজারে যে উৎসব চলছে, তা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতেই আমাদের এই আয়োজন। এখানে দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক বেড়াতে আসেন। বিশ্ব পর্যটন দিবসে পর্যটন মেলা উপভোগ করার জন্য প্রতিবারের চেয়ে এবার লোকজনের ভিড় বাড়ছে। তাদের হৃদয়ে যেন বঙ্গবন্ধু ও দেশরত্ন শেখ হাসিনার আদর্শ গেঁথে থাকে, সেই উদ্দেশ্যে এই বালু ভাস্কর্যগুলো তৈরি করা’।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ামিন হোসেন বলেন, ‘পর্যটন মেলাকে আরও বেশি সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে এই বালু ভাস্কর্য। ভাস্কর্য দেখতে নানা বয়সের মানুষ আসছে এবং আরও আসবে। বালু ভাস্কর্যে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে দেখে তারা ইতিহাস জানার চেষ্টা করবে; মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘সপ্তাহজুড়ে চলমান পর্যটনমেলায় দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ ও ছাড় রয়েছে। সারা দেশ থেকে পর্যটকরা কক্সবাজার এসে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করবেন- এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

পর্যটকদের নিরাপত্তায় পুরো সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, “মেলায় নিরাপত্তায় ঘাটতি নেই। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে সৈকতে কয়েক লাখ পর্যটকের সমাগম আশা করা হচ্ছে। পর্যটন দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী চলমান পর্যটন মেলা ও বিচ কার্নিভাল ঘিরে পর্যটকদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে তারা। কোনো পর্যটন স্পটে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচিতে থাকছে সার্কাস প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ডিজে শো, আতশবাজি, রোড শো, সেমিনার, ঘুড়ি উৎসব, ম্যাজিক শো, ফায়ার স্পিন, লাইফ গার্ড রেসকিউ প্রদর্শনী, ফানুস উৎসব, সার্ফিং প্রদর্শনী, বিচ ম্যারাথন, বিচ ভলিবল ও কনসার্টসহ নানা কর্মসূচি। এই বর্ণিল আয়োজন চলবে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত।

সংবাদটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন