আজ রবিবার, ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি
আজ রবিবার, ২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৫ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

ইউরোপের মাঝেই রাশিয়া-প্রীতির কারণে অস্বস্তি

ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলার পর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা বিশ্ব মস্কোর বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ইইউ-পদপ্রার্থী দেশগুলোও মোটামুটি সেই নীতি মেনে চলছে। কিন্তু গত সোমবারের একটি ঘটনা সেই ঐক্যের মধ্যে চিড় আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

উত্তর ম্যাসিডোনিয়া, বুলগেরিয়া ও মন্টিনেগ্রো রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় তিনি সার্বিয়া সফর বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। এতে এমন বিঘ্নের কারণে ইইউ ও ন্যাটোর কিছু দেশের নীতি সম্পর্কে প্রবল ক্ষোভ জানিয়েছে মস্কো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সত্ত্বেও লাভরভকে আদৌ স্বাগত জানাতে সার্বিয়ার ভূমিকা নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন উঠছে। উল্লেখ্য, পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় লাভরভের নামও রয়েছে।

মস্কোয় লাভরভ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, পশ্চিমা বিশ্ব বলকান অঞ্চলকে নিজেদের বলে ভাবছে, ঠিক যেমন রাশিয়া ইউক্রেনকে নিজের মনে করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার সবকিছুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। লাভরভের মতে, সার্বিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার বিশেষ সম্পর্ক কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। তিনি শীঘ্রই মস্কোয় সার্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোলা সেলাকোভিচের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছেন।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রার্থী হিসেবে সার্বিয়া ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার নিন্দায় ব্রাসেলসের সঙ্গে সুর মেলালেও মস্কোর উপর কোনো রকম নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। বরং রাশিয়া থেকে আরও বেশি গ্যাস আমদানি করার পথ বেছে নিয়েছে বেলগ্রেডের সরকার। রাশিয়াও আরও সস্তায় গ্যাস সরবরাহের আশ্বাস দিচ্ছে। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিচ গত সোমবার রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের কাছ থেকে লাভরভের সফর বাতিল হবার কথা জানতে পারেন। তিনি এই সফল বাতিলের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তার মতে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সার্বিয়া স্বাধীন মনোভাব রক্ষা করে চলবে।

বলা বাহুল্য, ইইউ সার্বিয়ার এমন আচরণ মোটেই ভালো চোখে দেখছে না। ভবিষ্যতে এই রাষ্ট্রজোটের সদস্য হতে হলে জোটের নীতি ও পদক্ষেপের সঙ্গে আরও সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে বলে সার্বিয়াকে পরোক্ষভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ইউক্রেনের উপর হামলার পর রাশিয়ার সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখা অথবা আরও নিবিড় করা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। চলতি সপ্তাহে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসের বেলগ্রেড সফরের সময় সেই বার্তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে সার্বিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক, জাতিগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ইউরোপীয় মূল্যবোধের পথে অন্তরায় হলে শেষ পর্যন্ত ব্রাসেলস কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা স্পষ্ট নয়।

এছাড়া ইউক্রেন সংকটের জের ধরে সার্বিয়ায় রাশিয়ার পক্ষে ও ইইউ-র বিপক্ষে জনমত আরও বাড়তে থাকায় অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। মুসলিম-প্রধান কসোভো অঞ্চলের সংকটের সময় রাশিয়া সার্বিয়ার পাশে দাঁড়ানোর ফলে সেই সমর্থন আরও জোরালো হয়েছে। কসোভোর স্বাধীনতার প্রতি শুরু থেকেই ইইউর সমর্থন সার্বিয়ায় অনেকে ক্ষোভের কারণ। এমন অবস্থায় সে দেশের সরকারের পক্ষে ইইউ-তে যোগদানের প্রচেষ্টা বাধার মুখে পড়তে পারে।

সংবাদটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করুন